ভোরের জানালা

জনগণের কল্যাণে অগ্রদূত

কুয়াকাটা সৈকতে বীচ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

1 min read

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

′সকলের অংশগ্রহণ, হ্রাস পাবে প্লাষ্টিক দূষণ’ প্রতিপাদ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বীচ হাফ ম্যারাথন। বাংলায় বিজ্ঞান চর্চা ও বিকাশে অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন কসমিক কালচার ট্রাষ্টের আয়োজনে ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন এবং ১০ কিলোমিটার পাওয়ার রান ম্যারাথন এই দুই ক্যাটাগরিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তিন শতাধিক পেশাদার, অপেশাদার ও শৌখিন দৌড়বিদ এ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করেন। শুক্রবার সূর্যোদয়ের পরপরই সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয় ম্যারাথন প্রতিযোগীতা। দৌড়বিদরা দৌড় শুরু করে লেম্বুরবন পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় জিরো পয়েন্টে ফিরে দৌড় শেষ করেন। প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে এমন আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি নিয়মিত এ রকম আযোজনের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

বয়স ভিত্তিক ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারথনে যুবকদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন আমির উদ্দিন এবং নারীদের মধ্যে দিলারা। ১০ কিলোমিটার পাওয়ার রান দৌড়ে চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন মোঃ মাহফুজ আহমেদ এবং নার্গীস জাহান ওহাব। প্রবীনদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন ইকবাল। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
১০ কিঃমিঃ রানের চ্যাম্পিয়ান মো. মুহতাসিন আল কাফি বলেন, আমি আমার জীবনে ধ্যান জ্ঞানে সব সময় রেচটাকে প্রাধান্য দেই। আমার এসএসসি পরীক্ষা চলমান তবুও আজ শুক্রবার পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমি এ ম্যরাথনে অংশগ্রহণ করেছি।

অপরদিকে প্রবীণ হাফ ম্যারাথনে পুরুষ চ্যাম্পিয়ান অধিকারী লুৎফর রহমান বলেন, আমি আমার পুরো জীবনের ফোকাস দিয়ে আসছি ম্যারাথনের উপর। আজ এ ইভেন্টের মাধ্যমে পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান কসমিক কালচারের জনসংযোগ সমন্বয়ক জুলিয়েট রোজেটি বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি এই সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে জন সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাত্যহিক জীবনে প্লাস্টিকজাত পণ্য ব্যবহার হ্রাসকরণে সকলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়েই বৈশ্বিক দূষণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। সমুদ্র সৈকতে এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী সকল রানার, স্থানীয় জনসাধারণ ও পর্যটকদের মাঝে পরিবেশ দূষণ কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করি।’
কসমিক কালচার ট্রাস্টের সভাপতি ডক্টর অনিস মন্ডল বলেন, প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে রানার, স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধিই হচ্ছে এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য। মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুয়াকাটা সৈকতে ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রানারের অংশগ্রহনের মধ্যে দিয়ে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এমন আয়োজন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাকে আবারও বিশ্ব দরবারে পরিচিত করবে। এর ফলে কুয়াকাটার প্রতি দেশ-বিদেশের মানুষের আকর্ষণ বহুগুনে বাড়বে।

ম্যারাথন মানুষের শারিরিক, মানসিক এবং সামাজিক সৃজনশীলতা বিকাশে এবং পারস্পরিক ঐক্য-সম্প্রীতি-সহযোগিতা প্রকাশের একটি কার্যকর মাধ্যম। তাই এই আয়োজনটি মানুষের অনেক বৈচিত্র্যতার মাঝেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ, যা আমাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরিতে অনুপ্রাণিত করবে।

Please follow and like us:
স্বত্ব © ২০২৪ ভোরের জানালা | Developed by VJ IT.
Translate »