ভোরের জানালা

জনগণের কল্যাণে অগ্রদূত

কুমিল্লা পদুয়ার বাজার মহাসড়কে চাঁদাবাজির নেপথ্যে যারা! (১)

1 min read

ছবি: কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড। (ফাইল ছবি)

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:

দলীয় ক্ষমতার দাপটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার মহাসড়ক এলাকা থেকে প্রতিদিন লাখ-লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় কিছু অসাধু বাহিনী। ফুটপাতের উপর দোকান বসিয়ে, বাস কাউন্টার করে, ফুটওভার ব্রীজ এর উপরে এবং নিচে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিয়ে দোকান ভাড়া দেওয়া এবং দোকানীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া, এমনকি সিটি কর্পোরেশনের নামে টোকেন বানিয়ে সিএনজি, অটো রিকশা থেকেও অবৈধ পন্থায় আদায় করা হচ্ছে চাঁদা।

কারা করছেন এসব চাঁদাবাজি? কিসের এতো ক্ষমতা তাদের? আর প্রশাসনই বা কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না এমন প্রশ্ন ওঠতেই পারে। আর এসব প্রশ্ন থেকে আমাদের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম ওঠে এসেছে চাঁদাবাজির নেপত্যে থাকা ডজন খানেক স্থানীয় নেতাকর্মীর। তার মধ্যে অন্যতম, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ২২নং যুবলীগের সদস্য এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদ হোসেন এর ভাতিজা দুলাল হোসেন অপু। তার রয়েছে নিজস্ব গ্যাং ও বাহিনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার মদিনা সুপার মার্কেটে আড্ডায় বসেন অপু ও তার গ্যাং বাহিনি। আর এসব বাহিনীর তান্ডবে আতঙ্কিত স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে অপু বাহিনীর সদস্য- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ২২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের ভাগিনা সুজন, এন এইচ সুমন, ২২নং ওয়র্ডের যুবলীগের সভাপতি হালিম, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ ভুলু, যুবলীগ নেতা সুমন দাস, দুলাল হোসেন, শিপন, যুবলীগ কর্মী সুমন, শ্রীবল্লভপুরের যুবলীগ সদস্য গাজী আনিসুর রহমান, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রবিন, রাফি, মাহফুজ, শুভ, খোকন, শাহিন মজুমদার, ওয়ার্ড ছাত্র লীগের যুগ্ম-আহবায়ক রিয়াজ, ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল, সোহেল রানা, ইমাম মাসুম, সিয়াম, গাজী নাঈম, সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মেহেদী হাসান, কচুয়া চৌমুহনী এলাকার মেহেদী হাসান মান্না’র নাম পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্বরোড এলাকার একাধিক দোকানী জানান, আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অগ্রিম (এ্যাডভান্স) নিয়ে আমাদের কাছে দোকান ভাড়া দিয়েছে অপু ও তার দলবল। তারা নিয়মিত আমাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। আমরা যদি কখনো চাঁদা দিতে না পারি তখন অপু’র গ্যাং বাহিনী দিয়ে আমাদের মদিনা সুপার মার্কেটে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। মদিনা মার্কেটে অপু’র নিজস্ব আড্ডাখানার পাশাপাশি টর্চার সেলও গড়ে তুলেছেন বলেও জানান।

আর সেই টর্সার সেল পরিচালনায় যেসব গ্যাং বাহিনীর ব্যবহার করেন অপু তাদের বেশিরভাগই ১৪-১৭ বছর বয়সী কিশোর। অর্থাৎ কিশোর গ্যাং এর মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেটের পারিচালনা করেন অপু। আর এদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং মাদক সরবরাহ করে থাকেন চিহ্নিত চাঁদাবাজরা।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চাঁদার টাকা ভাগা-ভাগি নিয়ে শ্রীমন্তপুর এলাকার সাদ্দাম নামে এক জনকে মারধর করে অপু গ্যাং বাহিনী। একসময় সাদ্দাম অপু গ্যাং এর সদস্য হয়ে চাঁদা আদায়ের ভাগ পেলেও ঘটনার পর থেকে সে আর তার ভাগ পায় না।

অপরদিকে সিটি কর্পোরেশন নাম ভাঙ্গিয়ে লাকসাম রোডে সিএনজি থেকে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে লালমাই এলাকার মানিক। এছাড়া নগরীর কান্দিরপাড় রোডে চাঁদাবাজি করে সিএনজি, অটোরিকশা থেকে জিবি নামক টাকা আদায় করে নাজমুল হাসান এবং রনি। জানাযায়, তারাও অপু’র নির্দেশে সিএনজি, অটোরিকশা সহ বিভিন্ন পরিবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে থাকেন।

এদিকে মহাসড়কের ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে নিয়মকরে নামকাওয়াস্তে অভিযানও পরিচালনা করেন প্রশাসন। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর উচ্ছেদ করা হলেও অভিযানের পর পরই নতুন করে দেখা মেলে সেসব দোকানগুলোর। সব শেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে এক অভিযান পরিচালনা করে ছিলেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা দুলাল হোসেন অপু’র সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার নিজস্ব কিছু সিএনজি ও বাস থাকলেও সে অন্য কোনো কাজের সাথে জড়িত নেই। তবে এইসব চাঁদাবাজি স্থানীয় সংসদ সদস্যের লোকেরা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে ফুটপাত দখলমুক্ত, মহাসড়ক সহ পদুয়ার বাজার এলাকাকে চাঁদাবাজ মুক্ত করতে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।

(চলবে….)

Please follow and like us:
স্বত্ব © ২০২৪ ভোরের জানালা | Developed by VJ IT.
Translate »