1. abdulla914559@gmail.com : Abdullah Al Mamun : Abdullah Al Mamun
  2. info@vorerjanala.com : admin : মেহেদী হাসান রিয়াদ
  3. parvessarker122@gmail.com : Md Parves : Md Parves
  4. anarul.roby@gmail.com : সহকারী ডেস্ক :
  5. i.am.saiful600@gmail.com : Saiful Islam : Saiful Islam
  6. sailorinfotech@gmail.com : N H Nahid : N H Nahid
  7. nu356548@gmail.com : Nasiruddin Liton : Nasiruddin Liton
  8. billaldebidwar@gmail.com : MD Billal Hossain : MD Billal Hossain
  9. rustom.ali.ml@gmail.com : Rustom Ali : Rustom Ali
  10. cricket.sajib@gmail.com : Md. Sazib Mandal : Md. Sazib Mandal
  11. journalistsojibakbor01713@gmail.com : Sojib Akbor : Sojib Akbor
  12. subrotostudio35@gmail.com : Subroto Sorkar : Subroto Sorkar
“তোমার আমার নতুন সকাল” » ভোরের জানালা ডট কম
সর্বশেষ
‘বঙ্গমাতা অদম্য উদ্যোক্তা’ অনুদান পেলেন সিলেট বিভাগের ১০ নারী জামালপুর জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন চবির নতুন নেতৃত্বে শাহরিয়ার-শিশির লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এল.এস.পি) কুমিল্লা জেলা শাখার সম্মেলন সন্দেহজনক ভাবে আটককৃত হৃদয়(বান্টি) নিরপরাধ | রাজনৈতিক কোন দলের সংশ্লিষ্টতা নেই গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ও জ্বালানি সাশ্রয়ী আইসিটি অবকাঠামো তৈরিতে হুয়াওয়ের নতুন সল্যুশন সাংবাদিকরা হলেন জাতির বিবেক – সাংসদ এনামুল হক যুদ্ধে নামছে দেশবাংলা কক্সবাজারে ’দৈনিক দেশবাংলা’ পত্রিকার প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত বাগমারার ঝিকরা তে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত রিয়াদের হারা জমজম ইশারায় তাসবি মিট কোম্পানি’র দ্বিতীয় শাখার শুভ উদ্ভোদন

আজ

  • আজ শনিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২২ ইং
  • ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
  • ১৪ই মুহররম, ১৪৪৪ হিজরী
  • এখন সময়, বিকাল ৪:২৫

“তোমার আমার নতুন সকাল”

  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৯

মেহেদী হাসান রিয়াদ:

আজ সোমবার। সকালে ঘুম ভাঙ্গলো বেলা ফুঁড়িয়ে।
মা ডাকছে, রুটি ঠান্ডা হয়ে গেলো। নাস্তা করবি কখন?
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ১২:১৪।
এইতো মা যাচ্ছি।
তাড়াহুরু করে নাস্তা করলাম। মনে হলো গতকাল সুমন ফোন করেছিলো আজ সকালে যেন আমি ওর শ্বশুর বাড়ি যাই। আমি সুমনকে ফোন করার জন্য মোবাইল হাতে নিয়ে যেই না রিং দিচ্ছি, ওপাশ থেকে সুন্দরী কেউ একজন বলে ওঠল;
আপনার মোবাইল এ পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালেন্স নেই, অনুগ্রহ করে রিচার্জ করুন। ধন্যবাদ।
বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সামনেই ফ্লেক্সির দোকান।
ভাইয়া, একটা গ্রামীণ নাম্বার লিখুন।
সরি ভাই। নির্বাচনের কারণে আজ রিচার্জ করা যাচ্ছে না।
মনটা কেমন খারাপ হয়ে গেলো, মনে মনে বলতে লাগলাম।
সংসদ সদস্যরা সম্ভবত আগেই রিচার্জ করে রেখেছেন, যাতে করে তাদের প্রয়োজনে সবাইকে বিজয়ের সু-খবর পৌঁছে দিতে পারেন। আর আমরা তা শুনতে পারি।

যাই হোক, উপায় নেই। হাটা দিলাম সুমনের শ্বশুর বাড়ির দিকে। অনেকটা পথ পেরিয়ে একটা উচ্চমাধ্যমিক স্কুল। তার পরেই বাজার। আর বাজারের উত্তর পূর্বদিকে তাকালেই সুমনের শ্বশুরের বসত ভিটা। ফোনে হঠাৎই ক্রিং ক্রিং শব্দ।
কিছুটা বিরক্তি ভাব নিয়েই পকেট থেকে ফোনটা বের করলাম।

: হ্যালো!
; হ্যা কাকা, কোথায় তুমি?
: আরে আগে বলো তুমি কোথায়?
: আমি তো সোহাগীদের বাড়িতে। তুমি না আজ আসার কথা ছিলো? এলেনা যে?
; কাকা তুমি বাড়ি থেকে বাইরে আসো। আমি বাজারের সামনে।
: অহ্‌ আচ্ছা! আমি আসছি। অপেক্ষা করো।

সামনে একটা রিচার্জ এর দোকান দেখলাম, জিজ্ঞেস করলাম;

  • ভাই রিচার্জ হবে?
    = কি নাম্বার ভাই?
  • ভাই নাম্বার না! মানে গ্রামীণ! হবে?
    = হ্যা, হবে।
  • ০১৭****
    রিচার্জ করতে করতে সুমন এসে হাজির।
    আজ আমার আর সুমনের প্রথমবার দেখা। আমার কাছে সুমনের ছবি ছিলো। মলিনীর কাছ থেকে নিয়ে ছিলাম। আমি সুমনকে সেই ছবির সুবাদে প্রথম দেখায় চিনে ফেলেছি।
    ; কাকা, কি অবস্থা তোমার?
    : স্বপ্ন! এইতো ভালো, তোমার কি অবস্থা?
    কথোপকথন চলছে দুজনের। দুজনে হাটা দিলাম সুমন এর শ্বশুরের ভিটেতে।

আরে দূর! আমি তো সুমনের পরিচয়টা’ই দিই নি।
সুমন মলিনীর বাবার চাচাতো ভাই। সুমন আর মলিনী প্রায় সমবয়সী। বাড়িতে ওরা একে অপরের বন্ধুও বটে। যদিও সুমন কিংবা আমি কেউ কাউকে আগে দেখিনি। ফোনে কথা হয়েছে বহুবার।
দুপুরের দিকে মনে পড়লো আজ তো ঘুম থেকে ওঠে মলিনীকে ফোন দেয়া হয়নি। ও হয়তো চিন্তিত থাকবে। আর আমি যেহেতু সুমনের শ্বশুর বাড়িতে এসেছি এটাও জানিয়ে দিই।
: হ্যালো মলিনী!
; হুম, হ্যালো! কেমন আছো তুমি?
: আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো, তুমি? রাগ করেছো? বেলা হয়ে গেলো ফোন দিই নি যে?
; আরে না, রাগ করবো কেন? হয়তো তুমি ব্যস্ত ছিলে তাই। তো কি করো?
[ বুঝতে পেড়েছিলাম, কিছুটা মন খারাপ। সকাল সকাল ফোন দিই, আজ তো দেয়া হয়নি। তাই আরকি! ]
: আমি এখন সুমনের সাথে।
; তুমি আবার সুমনকে কোথায় পেলে?
: গতকাল সন্ধ্যায় সুমন আমাকে নিমন্ত্রণ দিয়েছিলো ওর শ্বশুর বাড়িতে আসার জন্য। তাই চলে এলাম।
; বাহ্‌ ভালোই তো।
: হ্যা, অনেক ভালো। আচ্ছা শুনো, আমি তোমায় আবার পরে ফোন দিচ্ছি। সুমনের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা জমাতে হবে।
এই বলে ফোন রেখে দিলাম।

সোহাগী আমাদের আতিথীয়েথায় কোনো ত্রুটি রাখেনি।
কথা বলতে বলতে সুমন আর আমি অনেকটা পুরনো বন্ধু হয়ে গেছি। দুজনে বসে চা খেয়ে আড্ডা দিচ্ছি।
তার মধ্যেই দুপুরের খাবার খাওয়া শেষ। আমি বাড়ি যাবো বলায় সুমন বলে না। আমি তো একটু পরেই সোহাগীকে নিয়ে চলে যাবো। তুমিও আমার সাথে যাবে।
আমার কাছে কোনো উত্তর ছিলো না। আমি হ্যা ও বলিনি, না ও বলিনি।
ফোনটা বের করে মলিনীর কাছে রিং;

; হ্যালো!
: হুম, কি করো?
; সুমনের সাথেই আছি। আচ্ছা সুমন বলছে আমি নাকি ওর সাথে তোমাদের বাড়িতে যেতে। কি করবো এখন?

[ সুমন পেছন থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে মলিনীকে বলছে ]

; আমি স্বপ্নকে নিয়ে আসবো। চিন্তা করিস না তুই।

[ ফোনটা আবার আমার হাতে দিয়ে সুমন ঘরের ভেতরে চলে যায় ]

; কি করবো বলো?
: সুমন যেহেতু নিয়ে আসতে চায়, তাহলে এসো।

ভেবে উঠতে পারছিলাম না আসলে কি করবো। যাই হোক।
একজন ভদ্র বাধ্য ছেলের মতো সুমনের সাথে গাড়িতে চড়ে বসলাম। গাড়ি চলছে। সুমন আর সোহাগী এক সাথে। কেমন একটা রোম্যাঞ্চ ভর করেছে আমাকে।
সুমন বলে ওঠে, স্বপ্ন!
হ্যা কাকা বলো।
আজ বিকেলটা আমাদের বাড়িটা ঘুড়ে দেখাবো তোমায়। সবার সাথে পরিচিত করিয়ে দিবো।
কি বলে পরিচয় দেবে কাকা?
এই যে তুমি আমার একজন বন্ধু। যাতে করে সবাই তোমায় চিনতে পায়।
আচ্ছা ঠিক আছে কাকা।

বিকেল ঘনিয়ে এলো। আমি সুমন আর সোহাগী মলিনীদের উঠোনে।
প্রথমে মলিনী দেখতে পায়নি আমায়। পেছনে তাকিয়ে কেমন যেন অবাক হলো সে।
দূর থেকে তাকিয়ে ছিলো কিছুটা। আমি দাঁড়াই নি। এ পথেই হেটে গিয়েছি সুমনের ঘরে।

সুমন সোহাগীকে ঘরে দিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলো। তারপর আমরা দুজন বেড়াতে গেলাম।

বিলেক শেষে সন্ধ্যা এলো। আমরাও এলাম ফিরে। মলিনী কতটা খুশি। আমি এর আগে ওর চোখে এতোটা সুখ দেখিনি। কেমন যেন গভীর ভাবে চেয়ে চোখের পলক ফেলে সে। মায়ের সাথে কথা হলো। মলিনীর সাথে অল্প দুচার আলাপ। পেছন থেকে সুমন এসে;

: কাকা চলো যাবে।
; চলো!

মনের মধ্যে কেমন একটা করে ওঠে আমার। এইতো এলাম। এখুনি যেতে হবে বুঝি?
সুমনকে মনের কথাটা বলতে পারিনি।

বাড়ি ফিরেই মলিনীর ফোন।
: হ্যা গো! কেমন তুমি?
; কি করলাম আমি?
: কিছু করনি বুঝি? এমন করে এসে কেউ চলে যায়?
; কি করবো বলো; তোমার বাড়ি, তোমার ঘর, তোমার কাকা যে !!!

মন আমার কেমন যেন মলিন হয়ে গিয়েছিলো সেদিন। ঘন্টা দুয়েক বাদে আবার ফোন বেজে উঠলো;
ক্রিং ক্রি

; হ্যাগো, সিভি লিখতে হবে। একটু বলো না কি করবো এখন?

[ আমাদের মধ্যেই রইলো কথা গুলো ]

হাজার মলিনতার মধ্যে আবার একটা নতুন সুখ খুঁজে পেলাম। মলিনী তার পাশের গ্রামে একটা উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে সহকারী শিক্ষিকার জন্য আবেদন করছে। মন আনন্দে উন্মাদ হয়ে গেলো আমার।

সকাল সকাল মলিনী যাবে স্কুলে। আমিও যাবো। মা থাকবে সাথে।

রাত প্রায় ১২ টা। আজ তো বছরের শেষ দিন। মনেই ছিলো না। মনে পড়তেই ঘড়ির দিকে তাকালাম।
এ কি? ১২:০৫ বেজে গেছে। নতুন বছর এসেগেছে!
; ওগো ঘুমিয়ে গেছো?
: কিছুটা, কেন গো?
; শুভ নববর্ষ।
: শুভ নববর্ষ গো।
; মলিনী, ভালোবাসি।
: ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।

সকালে স্কুলে যাওয়ার সময়টা জেনে নিয়ে সন্ধ্যায় যে কাছে পাইয়াও পাইলামনা তারে বেদনা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম দুজনে।

প্রভাতে মলিনী ফোন করে জাগিয়ে দিয়েছিলো। নতুন বছরের প্রথম ডেকে দিয়েছিলো মলিনী।
বিছানা ছেঁড়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হলাম। ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে মলিনীর বাড়ির দিকে।
ও দিকে মলিনী আর মা দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য। স্কুলে যাবো তিনজন মিলে।
যাওয়ার পর শুনলাম, স্কুলে যেতে হয়নি। পথেই স্কুলের কোনো এক উচ্চপদস্থ লোকের সাথে দেখা। ওনার কাছেই কাগজ পত্র বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

তারপর মায়ের কাছে বিদাই নিয়ে আমি আর মলিনী হাটছি গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে।

পথের ধারে সবুজ ঘাস। পূবের আকাশে একটা থালার মতো সূর্য। রাতের কুয়াশার কণা গুলো শিশির হয়ে জমে আছে ঘাসের ডগায়। রোদের আলোক রশ্মি সেই সুন্দর্যকে করে তুলেছে আরও প্রজ্বলিত।

এইতো প্রথম দুজন গায়ের পথ ধরে সবুজ ঘাসে পা মাড়িয়ে হেঁটে চলা শুরু।

নতুন বছরে, নতুন সকালে, নতুন রূপে আমরা দুজন।

লেখকঃ মেহেদী হাসান রিয়াদ (স্বপ্ন)

[ 03-01-2019 ]

সবার সাথে শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদ পড়ুন

tv 21

  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার ‘ভোরের জানালা ডট কম’ কর্তৃক সংরক্ষিত।
সাইট ডিজাইন এন্ড ডেভেলপ মেহেদী হাসান রিয়াদ - 01760-955268
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।