1. abdulla914559@gmail.com : Abdullah Al Mamun : Abdullah Al Mamun
  2. info@vorerjanala.com : admin : মেহেদী হাসান রিয়াদ
  3. parvessarker122@gmail.com : Md Parves : Md Parves
  4. anarul.roby@gmail.com : সহকারী ডেস্ক :
  5. i.am.saiful600@gmail.com : Saiful Islam : Saiful Islam
  6. sailorinfotech@gmail.com : N H Nahid : N H Nahid
  7. nu356548@gmail.com : Nasiruddin Liton : Nasiruddin Liton
  8. billaldebidwar@gmail.com : MD Billal Hossain : MD Billal Hossain
  9. rustom.ali.ml@gmail.com : Rustom Ali : Rustom Ali
  10. cricket.sajib@gmail.com : Md. Sazib Mandal : Md. Sazib Mandal
  11. journalistsojibakbor01713@gmail.com : Sojib Akbor : Sojib Akbor
  12. subrotostudio35@gmail.com : Subroto Sorkar : Subroto Sorkar
পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ইসলামি বিধান » ভোরের জানালা ডট কম
সর্বশেষ
জামালপুর জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন চবির নতুন নেতৃত্বে শাহরিয়ার-শিশির লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এল.এস.পি) কুমিল্লা জেলা শাখার সম্মেলন সন্দেহজনক ভাবে আটককৃত হৃদয়(বান্টি) নিরপরাধ | রাজনৈতিক কোন দলের সংশ্লিষ্টতা নেই গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ও জ্বালানি সাশ্রয়ী আইসিটি অবকাঠামো তৈরিতে হুয়াওয়ের নতুন সল্যুশন সাংবাদিকরা হলেন জাতির বিবেক – সাংসদ এনামুল হক যুদ্ধে নামছে দেশবাংলা কক্সবাজারে ’দৈনিক দেশবাংলা’ পত্রিকার প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত বাগমারার ঝিকরা তে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত রিয়াদের হারা জমজম ইশারায় তাসবি মিট কোম্পানি’র দ্বিতীয় শাখার শুভ উদ্ভোদন বাজারে না আসতেই পাঠক সমাজে ঝড় তুলেছে দেশবাংলা

আজ

  • আজ বুধবার, ১০ই আগস্ট, ২০২২ ইং
  • ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
  • ১১ই মুহররম, ১৪৪৪ হিজরী
  • এখন সময়, সন্ধ্যা ৭:৩৯

পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ইসলামি বিধান

  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

ইসলামিক ডেক্সঃ

পর্ণোগ্রাফি বলতে প্রকাশ্যে যৌনতা উৎপাদন ও প্রদর্শন করাকে বুঝায়। পাশ্চাত্য জগত স্বতন্ত্র শিল্পের দাবী নিয়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের চিত্তবিনোদনের জন্য আইনের স্বীকৃতিসহ আবির্ভূত প্রকাশ্যে যৌনদৃশ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাত ও বিপণন করে। এটা সত্য যে, আদিকাল থেকেই নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের উপস্থাপন নানাভাবে হয়েছে।

সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও স্থাপত্যে নানাভাবে শিল্পসম্মত উপায়ে যৌনতা উপস্থাপিত হয়েছে। যৌনতার শিল্পসম্মত উপস্থাপন শিল্প, সাহিত্য ও জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু টেলিভিশন, ভিডিও ও ইন্টারনেট আবিস্কারের পর ‘প্রাপ্ত বয়স্কদের চিত্তবিনোদন’ বা মনোরঞ্জনের কথা বলে পর্ণো ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশে পর্ণোগ্রাফির বিপুল চাহিদা সৃষ্টির পাশাপাশি পর্ণো বাণিজ্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে এর পিছনে অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক কার্যকারিতাকে যৌক্তিকরূপে দৃশ্যমান করে তোলা হচ্ছে। অথচ সমাজের ওপর তার ফলাফল মারাত্মক নেতিবাচক।

পর্ণোশিল্প শিশু, নারী-পুরুষ ও সমাজে বিষাক্ত দূষণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিশু পর্ণোগ্রাফী কোমলমতি শিশুদের সুন্দর মনকে অজ্ঞাতসারে বিষিয়ে তুলছে। পর্ণোগ্রাফীর ক্ষতিকর প্রভাবে ধর্ষণ, যৌন অপরাধ এবং পুরুষ-নারীর বিপথগামী আচরণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও অনেক দিন ধরে অশ্লীল ছবি ও চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী চলছে এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফী ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রচলিত মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ পর্ণোগ্রাফি বা অশ্লীল ছবির উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও প্রদর্শনীকে অনুমোদন করে না। এখানকার জনসাধারণের অধিকাংশের ধর্ম ইসলামে পর্ণোগ্রাফিসহ সব ধরনের অশ্লীলতা নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশের পর্ণোগ্রাফি পরিস্থিতিঃ

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে পর্ণোগ্রাফি মহামারী আকার ধারণ করেছে। ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে পর্ণো ভিডিও ও স্থির ছবি আপলোড এবং ডাউনলোড, রাস্তার পাশে প্রকাশ্যে পর্ণো সিডি বিক্রি, পত্রিকার দোকানে পর্ণো ম্যাগাজিন বিক্রি এবং মোবাইলের মাধ্যমে সমাজের মধ্যে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় পর্ণোগ্রাফি এখন খুবই সহজলভ্য হয়ে গেছে। দেশের যুব সমাজের একটি বিশাল অংশ এ ঘৃণ্য কাজটিকে বিনোদন হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পর্ণোগ্রাফির চাহিদাও দিন দিন বেড়ে যেতে থাকে।

বাংলাদেশে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আইনঃ

পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আইন রয়েছে। ব্রিটেনে ‘অবসিনিটি পাবলিকেশন্সক অ্যাক্ট ১৮৫৭’-এর মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফি নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনের একটি প্রধান মাধ্যম হলো পর্ণোগ্রাফি। তবে শিশু পর্ণোগ্রাফি, পাশবিকতা ও নিষ্ঠুর যৌনতার প্রদর্শনীর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওসব দেশের পর্ণোগ্রাফি আইনের সারকথা হচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ স্বেচ্ছায় পর্ণো ফিল্মে অংশ নিতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ ওয়েবসাইট থেকে বা দোকান থেকে পর্ণোগ্রাফির ভিডিও কিনে তা দেখতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকবার পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিপণনে নিয়ন্ত্রণ করে প্রণীত আইনকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং যুক্তি পেশ করেছে যে, ওই আইনগুলো নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে মারাত্মক এক স্ববিরোধীতা রয়েছে। সেখানে একদিকে পতিতাবৃত্তি অবৈধ, অপরদিকে পর্ণোগ্রাফি বৈধ। এ স্ববিরোধীতা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোতে শিশু পর্ণোগ্রাফি নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশ পশ্চিমা প্রভাবে প্রভাবিত অনেক এশিয়ান সমাজ থেকেও ভিন্ন। এখানে পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও বিপণনকে রোধ করার জন্য সরাসরি কোনো আইন এতদিন ছিল না। ”চবহধষ ঈড়ফব, ১৮৬০ সিনেমাটোগ্রাফীক অ্যাট, ১৯১৮, বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানী বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য প্রতিরোধমূলক বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে হাইকোর্টের নির্দেশনা জরুরী বিবেচিত হয়।

উক্ত নীতিমালার মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফিকেও নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। অবশেষে ২ মে, ২০১১ মন্ত্রীসভার এক নিয়মিত বৈঠকে পর্ণোগ্রাফি তৈরী ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করে ‘পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১১’ শিরোনামে একটি আইনের খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়।

পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ইসলামী নৈতিকতাঃ

পর্ণোগ্রাফি একটি সর্বজন স্বীকৃত অশ্লীলতা। মানব সমাজকে পুতঃপবিত্র এবং বিশৃঙ্খলামুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ইসলামে সকল প্রকার অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “আপনি বলুন, আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন- যা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার, আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোনো সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না। (আল-কুরআন, ৭:৩৩)

আল্লাহ সকল ধরনের অশ্লীলতা পরিহারের নির্দেশ প্রদান করে বলেন, “আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচারণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন- যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।’’ (আল-কুরআন, ১৬:৯০)

আল্লাহ বলেন, “আর যদি আহলে-কিতাবরা বিশ্বাস স্থাপন করত এবং খোদাভীতি অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের মন্দ বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে নেয়ামতের উদ্যানসমূহে প্রবেশ করাতাম। (আল-কুরআন, ৫:৬৫)

আল্লাহ ‘আমর বিল মরূপ’ এবং ‘নাহি আনিল-মুনকার’ (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ) কে মু’মিন ও মুনাফিকদের সাথে পার্থক্যকারী নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ফলে কোন মুসলিম অশ্লীল কোন কাজে জড়িত হওয়া তো দূরের কথা, বরং অশ্লীল কাজে বাধার প্রাচাীর হয়ে দাঁড়ানো তার দায়িত্ব। রসূলুল্লাহ সা: বলেন, “তোমাদের কেউ অন্যায়-অশ্লীল কর্ম দেখলে তা শক্তি দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সমর্থ না হয় তাহলে কথার দ্বারা প্রতিবাদ করবে। এতেও সমর্থ না হলে বিবেক দ্বারা প্রতিহত করবে। আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল ঈমান। ফলে ইসলাম প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সর্বপ্রকার অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসলামে সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে যার স্বভাব-চরিত্র সবার চাইতে সুন্দর। রুচিহীন কয়েকটি কর্মকেও নিষিদ্ধ করেছে।

নিম্নে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ইসলামের ঐতিহাসিক বিধি-বিধানের প্রায়োগিক দিকসমূহ তুলে ধরা হল-

স্বচ্ছন্দ ও প্রশান্তিপুর্ণ পারিবারিক ব্যবস্থাপনা ঃ ইসলামে বিবাহবন্ধনকে সুস্থ জীবনযাপনের আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। আল-কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্ম পরায়ণ তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের স্বচ্ছল করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (আল-কুরআন, ২৪:৩২) পবিত্র কুরআনে আল্লাহ যৌনতার একমাত্র বৈধ পন্থা হিসেবে বিবাহ বন্ধনের স্বীকৃতি প্রদান করেছেন, যার মধ্যে নারী-পুরুষের জন্য পারস্পরিক স্বচ্ছন্দ এবং প্রশান্তি রয়েছে। দাম্পত্য জীবনকে ইসলাম একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মনে করে এবং তা সংরক্ষণের পরামর্শ দেয়।

বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধকরণঃ

ইসলাম নারী-পুরুষের বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন, “সে যে স্ত্রীলোকের ঘরে ছিল সে তার কাছ থেকে অসৎকাজ কামনা করল ও দরজাগুলো বন্ধ করে দিল এবং বলল, ‘আস’। সে বলল, ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তিনি আমার প্রভূ; তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয় সীমালঙ্ঘনকারীরা সফলকাম হয় না। সে নারী তো তার প্রতি আসক্ত হয়েছিল এবং সেও তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ত যদি না সে তার প্রতিপালকের নিদর্শন দেখতে পেত। আমি তাকে মন্দ কাজ ও অশ্লীলতা হতে বিরত রাখার জন্য এভাবে নিদর্শন দেখিয়ে ছিলাম। সে তো ছিল আমার বিশুদ্ধচিত্ত বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত। (আল-কুরআন, ১২:২৩-২৪)

ব্যভিচার নিষিদ্ধকরণঃ

ইসলাম অশ্লীল কাজ হিসেবে ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘‘ব্যভিচারিণী নারী এবং ব্যাভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত কর। (আল-কুরআন ২৪:২) আল্লাহ লজ্জাস্থান হিফাজতকারীকে ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, “যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাজাতকারী নারী; আল্লাহর অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারী নারী তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। (আল-কুরআন, ৩৩:৩৫) তাই আল্লাহ ব্যভিচারকে শুধু নিষিদ্ধই করেননি; বরং ব্যভিচারের নিকটবর্তী হতেও নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (আল-কুরআন, ১৭:৩২)

রসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তায়ালা (কিয়ামতের দিন) তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন। সেদিন আরশের ছায়া ছাড়া আর অন্য কোন ছায়া থাকবে না। (সেই সাত শ্রেণীর একজন হল) যে ব্যক্তিকে কোন সম্ভ্রান্ত বংশের সুন্দরী রমণী ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানায় আর ঐ ব্যক্তি শুধু আল্লাহর ভয়ে তা থেকে বিরত থাকে। (ইমাম মুসলিম)।

অশ্লীলতা প্রতিরোধে পর্দার ব্যবস্থাপনা :

পর্দাহীনতা আর নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা সমাজে কেমন বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং নারীকে কীভাবে ভোগ্য-পণ্যের বস্তুত পরিণত করেছে তা চারদিকে লক্ষ্য করলেই দেখতে পাওয়া যায়। পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা, অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস, বিবাহ-বিচ্ছেদ, নারী-নির্যাতন ইত্যাদি সবকিছুর পেছনেই একটি প্রধান কারণ হলো পর্দাহীনতা এবং নর-নারীর অবাধ মেলা-মেশা। আল্লাহ নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান কর এবং জাহেলিয়াত যুগের নারীদের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করে অশ্লীলভাবে ঘোরাফেলা কর না। (আল-কুরআন, ৩৩:৩৩)
ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কে শুধু পরস্পরের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিতেই বারণ করেনি; অধিকন্তু সকল প্রকারের দৈহিক সংস্পর্শ থেকেও বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছে।

ইসলাম মনে করে, দুর্ঘটনা ঘটার আগে তার পথগুলো বন্ধ করাই শ্রেয়। কিছু সংখ্যক লোক ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থাকে সমালোচনা করে এবং এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম নারীদের উপরে এক প্রকার এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে মনে করে, যার ফলে তারা মানবীয় কার্যাদিতে ইচ্ছামত অংশগ্রহণ করতে পারে না বলে মনে করে অথচ এ ধারণা সঠিক নয়। ইসলাম পর্দাপ্রথার মাধ্যমে নারী জাতিকে মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে এবং তাঁকে এমন এক নিরাপত্তা দান করেছে, যার ফলে একজন নারী অধিকতর স্বাচ্ছন্দের সাথে তার কাজকর্মসমূহ সমাধা করতে পারে। তাই পর্দা মুসলিম নারীকে প্রশান্তি দান করেছে।

ইসলামী মূল্যবোধ মানুষকে অশ্লীল কর্ম থেকে বিরত রাখে। অশ্লীলতার সকল দুয়ার উন্মুক্ত রেখে শুধু আইন করে অশ্লীলতাকে রোধ করা যায় না। পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মননে ধর্মীয় মূল্যবোধ অভাবনীয় প্রভাব ফেলতে পারে। একমাত্র ইসলামী জীবন দর্শনের বাস্তবায়ন পর্ণোগ্রাফি নামক মহামারি থেকে সমাজকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে ইসলামী মূল্যবোধ মানুষকে সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখতে পারে।

সবার সাথে শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদ পড়ুন

tv 21

  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার ‘ভোরের জানালা ডট কম’ কর্তৃক সংরক্ষিত।
সাইট ডিজাইন এন্ড ডেভেলপ মেহেদী হাসান রিয়াদ - 01760-955268
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।