শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে কলঙ্কিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্প ঘিরে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের সাবেক ক্যাশিয়ার ও ডেস্ক–১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, বর্তমানে তত্ত্বাবধক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী- যিনি প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন ধরে বদলি- পদোন্নতি নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ইইডির ভেতরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। সরকার পরিবর্তন হলেও তার গড়ে তোলা এই সিন্ডিকেট কার্যত অক্ষত রয়েছে, যা প্রশাসনের ভেতরে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে ওঠে ভয়াবহ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল ছাড়ের আগে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ ঘুষ আদায় করা হতো। একইসঙ্গে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের এলাকায় দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ হারে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো- স্বজনপ্রীতি ও ঘনিষ্ঠ কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের নামে আগেই দরপত্র সংগ্রহ করে তা অন্য ঠিকাদারদের কাছে ৫ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করা। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আসবাবপত্র সরবরাহ প্রকল্পে আহ্বান করা ৩৯টি দরপত্রের মধ্যে ২৬টি এককভাবে তার মনোনীত ঠিকাদারকে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই শুরু হতো ভয়ভীতি ও হয়রানি। দলীয় ক্যাডার ও সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট ব্যবহার করে একাধিক ঠিকাদারকে নানাভাবে চাপে রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে পদোন্নতি দিয়ে কোটি টাকার চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে- যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের কারণেই তিনি বারবার দায়মুক্তি পাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে এক শিক্ষা প্রকৌশলী জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত জরুরি। অন্যথায় শিক্ষা খাতে উন্নয়নের নামে লুটপাটের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।