1. info@vorerjanala.com : admin : মেহেদী হাসান রিয়াদ
  2. parvessarker122@gmail.com : Md Parves : Md Parves
  3. anarul.roby@gmail.com : সহকারী ডেস্ক :
  4. i.am.saiful600@gmail.com : Saiful Islam : Saiful Islam
  5. billaldebidwar@gmail.com : MD Billal Hossain : MD Billal Hossain
  6. cricket.sajib@gmail.com : Md. Sazib Mandal : Md. Sazib Mandal
  7. subrotostudio35@gmail.com : Subroto Sorkar : Subroto Sorkar
এই সেই ছেলেটি - ভোরের জানালা

আজ

  • আজ শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
  • ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)
  • ১লা সফর, ১৪৪২ হিজরী
  • এখন সময়, সন্ধ্যা ৬:১৯

এই সেই ছেলেটি

  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭৯ দেখেছেন

লেখকঃ আহসান উদ্দিন ইয়াকুব

যে ছেলেটির লজ্জা ও জড়তার কারণে মুখ থেকে কথা বের হতো না। পথেঘাটে পরিচিত কাউকে দেখলে সে অন্য পথ দিয়ে হেঁটে যেতো। দেখতে হাবাগোবা ছিল বলে ঘরে-বাইরে বিনা কারণে তাকে অনেক পীড়ন সইতে হতো। পু্কুরে কিংবা খালেবিলে গোসল করতে গেলে পাড়ার দুষ্ট ছেলেরা তাঁকে পানিতে চোবাতো। স্কুলে গেলে দুষ্ট ছাত্রদের খপ্পরে পড়তো। অনেক ছাত্র তাকে কিল-ঘুসি ও লাথি মারতো। স্কুলে পাশের সিটের কোনো কোনো ছাত্র কলম বা পেন্সিল দিয়ে তার জামাকাপড়ে এটাসেটা লিখে সমস্বরে হেসে উঠতো। আমাদের দেশে কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুয়েকজন করে ইতর শিক্ষক শিক্ষকতা করেন। তার স্কুলেও তেমনি একজন ইতর শিক্ষক ছিল। তার চালচলন বোকা ধরনের ছিল বলে সেই শিক্ষকটি এলাকার হাবাগোবা-বোকা লোকদের সঙ্গে তুলনা করে তাকে সম্বোধন করতেন। ফলে ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা হো হো করে হেসে উঠতো।

এছাড়া ক্লাসে পড়া মুখস্থ না পারলে অন্য ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় তাকে অপেক্ষাকৃত বেশি বেত্রাঘাত করতেন। কখনো কখনো তাকে হাইবেঞ্চে দাঁড় করিয়ে রেখে অপমান করতেন। এই ইতর শিক্ষকটির সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ  কিংবা অন্য কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। ছেলেটির পারিবারিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল এলাকার দশ/ বিশ গ্রামের মধ্যে অন্যতম। ছেলেটি বোকা ছিল বলে এসব অভিযোগ পরিবার পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছতো না। ছেলেটির সবার বড় ভাই তাকে কারণে-অকারণে সকাল-বিকাল ও সন্ধ্যায় কিল-থাপ্পড় দিতেন। এসব অপমান নির্যাতন নিরবে সহ্য করা ছাড়া তাঁর কোনো গতি ছিল না।

ছাত্র হিসেবে ভালো ছিল না বলে তাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুবছর, নবম শ্রেণিতে দুবছর থাকতে হয়েছে। ১৯৮৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৫ সালে থার্ড ডিভিশনে পাস করেছে। তারপর সে দীর্ঘদিন কলেজে পড়াশোনা করেছে। এত অপমান-নির্যাতন সহ্য করেও নিজের প্রতি ছিল তার সীমাহীন আত্মবিশ্বাস। আর সেই আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে দিয়েছিলেন তার স্নেহময়ী মা ও উদার মানসিকতার পিতা। তারা তাকে অন্যদের চেয়ে একটু বেশি বলতেন, এ-ই একদিন সমাজের অন্ধকার তাড়াবে।

সব সময় সে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। ভেতর থেকে কে যেন বলে উঠতো, তুমি একদিন না একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। তার সেই লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে তিনি শিক্ষকের শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি শিক্ষাবিদ কিংবা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এমন কেউ নন। তিনি নিজেকে  চিনতে পেরেছেন। তিনি অনুভব করতে পেরেছেন, কেবল উচ্চশিক্ষিত হলেই সুশিক্ষিত হওয়া যায় না। দেশ-বিদেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করার পরও অনেকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না। এদেশে এমনই শিক্ষানীতি যে, রাতদিন পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালো রেজাল্ট করেও কর্মক্ষেত্রে সে শিক্ষা কোনো কাজে আসছে না। পাঠ্যপুস্তকের সীমাবদ্ধ শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞানী কিংবা সুশিক্ষিত হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া অনেকের অফুরন্ত প্রতিভা থাকাসত্বেও লজ্জা ও জড়তার কারণে সমাজে প্রতিষ্ঠত হতে পারছে না। সভা-সমিতিতে দাঁড়িয়ে কথা বলতে না পারলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না, সমাজ কল্যাণমূলক কাজের  প্রস্তাব দেওয়া যায় না। মেলদরবারে কথা বলতে না পারলে প্রতিপক্ষ অন্যায় করেও জিতে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করতে না পারলে রাগে-ক্ষোভে শরীরের রক্ত টগবগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের প্রতি হিংস্র হয়ে ওঠে। 

এক সময় সে নিজেও বক্তৃতা দিতে পারতো না। এটি ছিল তার গোপন কষ্ট। বিভিন্ন সভা-সমিতিতে তাকে অতিথি হিসেবে থাকার জন্য প্রস্তাব দিলে শরীর অসুস্থ, কাজে ব্যস্ত এসব অজুহাত দেখিয়ে সেখানে যেতো না।

এ কথাগুলো ছিল তার মুখের কথা, মনের কথা নয়। অবশেষে নিজের সমস্যা দূরীকরণসহ অন্যদের সংকট দূর করার জন্য তিনি ১৯৯৯ সালের ৩০ এপ্রিল, ঢাকার শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের দোতলায় চালু করেন বক্তৃতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। উদ্বোধনী দিন উপস্থিত ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক মোবারক হোসেন খান ও নাট্যকলায় একুশে পদকে ভূষিত এসএম মহসীন।

বিশেষ কারণবশত কয়েক বছর বন্ধ ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তারপর তিনি ঢাকার কমলাপুর পল্লীকবি জসীম উদদীনের বাড়িতে পুনরায় চালু করেন। বর্তমানে এটি দেশের উচ্চ শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত মানুষের বহুমাত্রিক শিক্ষার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর থেকে এডিশনাল এসপি, স্কুল কলেজের সহকারী শিক্ষক থেকে ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল, বিভিন্ন ব্যাংকের এজিএম থেকে শুরু করে ডিজিএম, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডাক্তারদের মধ্যে মেডিকেল অফিসার থেকে সহযোগী অধ্যাপক, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, অর্ধশতাধিক আইনজীবী, শিল্পপতি, বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা জড়তা দূরীকরণের পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে একমাত্র শিক্ষক তিনি। শুধু তাই নয়, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থীদের অর্থায়নে ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর ২৫ মে, তার জন্মোৎসব পালিত হয়। তার জন্মোৎসবে উপস্থিত থেকে তাকে ফুলের তোড়া ও মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, জননন্দিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী , সাবেক এমপি অধ্যাপক ড. এম আবদুল হক, বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব, ড. আফরোজা পারভীন, বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, একুশে পদকে ভূষিত কবি আল মুজাহিদী, রাজনীতিক এডভোকেট রফিক সিকদার, রাজনীতিক গাজী মোস্তাফিজুর রহমান, দার্শনিক আবু মহি মুসা, একুশে পদকে ভূষিত অধ্যাপক, ড. হায়াৎ মামুদ, স্বাধীনতা পদকে ভূষিত অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, নাট্যকলায় একুশে পদকে ভূষিত এসএম মহসীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জমির হোসেন, অধ্যাপক ড. শাকির সবুর, কবি ও সাংবাদিক সালাম সালেহ উদদীন, কবি নজরুল ইসলামের উত্তরসূরী সুবর্ণ কাজী, ড. সুফী সাগর শামস, প্রিন্সিপাল আবুল খায়ের দুলাল, উপসচিব সাখাওয়াত শাওন, কথাসাহিত্যিক আতা সরকার, ব্যাংকার মোঃ রুহুল আমিন, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, কবি নূর কামরুন নাহার, শিক্ষাবিদ সাইদ উদ্দিন খান জাবেদ, এ্যাডভোকেট একেএম জাকারিয়া, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান পামেন, সাংবাদিক  সাব্বির আহাম্মদ সুবীর,  আহসান উদ্দিন ইয়াকুব, কবি হুমায়ুন কবির, প্রকাশক আবুল হোসেন, বিপ্লব সরকার পলাশসহ অনেকে।

সেই সঙ্গে তার ছবিসহ জীবনী ছাপা হয়েছে, দৈনিক কালেরকন্ঠ,দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সমকাল, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক ইনকিলাব, আমাদের সময়, দৈনিক যায়যায়দিন, দি ডেইলি সান, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক নয়াদিগন্তসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। তাকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন, সাবেক সচিব ও প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, কবি আল মাহমুদ, কবি আল মুজাহিদী, কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা, কবি ফারুক নওয়াজ, কবি ও সাংবাদিক সালাম সালেহ উদদীন, কবি ও সাংবাদিক মোঃ সাইদুর রহমান, কলামিস্ট অধ্যাপক মাহমুদুল বাসার, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রফেসর আবদুস ছালাম, কবি ও নাট্যকার ইরানী বিশ্বাস, সাংবাদিক সাব্বির আহমেদ সুবীর, আহসান উদ্দিন ইয়াকুবসহ অনেকে।

সব সময় তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিাকালে নিজের জমি দিলেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ সালে বাতিল হওয়ার পর এটির বিনিময়ে লর্ড হার্ডিঞ্জ এদেশে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিলেন। ১৯০২ সালে স্যার সলিমুল্লাহ তার বাবার নামে আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল চালু করেন। ১৯৪৭ সালে এটিকে আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে উন্নীত করা হয়। ১৯৬২ সালে এটির নামকরণ হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হওয়ার পূর্বে রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ের  জন্য স্যার সলিমুল্লাহ তার দিলকুশা বাগান বাড়ি থেকে ১৭৫ বিঘা জমি দিলেন। সব কিছু মিলিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি ৬০০ একর জমি দান করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্যার সলিমুল্লাহর নামে এদেশে কোনো স্মরণসভা হয় না। এ সকল দিক বিবেচনা করে  ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে তার সভাপতিত্বে স্যার সলিমুল্লাহ ১০৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী  পালিত হয়।  এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,সংবিধানের প্রণেতা, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. হায়াৎ মামুদ। মঞ্চে ছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উত্তরসূরী নায়ক নাঈম। একই বছরের ২১ জুন, রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে তার সভাপতিত্বে স্যার সলিমুল্লাহর ১৪৭তম জন্মোৎসব পালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এবং উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূইয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার তাজনাহার মিলি। ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি, স্যার সলিমুল্লাহর ১০৫তম স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে। অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ ও আজিজুল ইসলাম ভূইয়া , সলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক নিরু আক্তার।

দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে, কিন্তু সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়ির দ্বন্দ্ব চিরকালই ছিল। বর্তমানে নারীরা উচ্চ শিক্ষিত ও স্বাবলম্বি হওয়ার ফলে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে চিরকালের দ্বন্দ্বটি চরম আকার ধারণ করেছে। তাতে করে অনেক শ্বশুর-শাশুড়ি বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিচ্ছে। অপরদিকে সংখ্যা কম হলেও অনেকে পুএবধু শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করছে। যারা এ ধরনের সেবা করে যাচ্ছে তাদের পুরস্কৃত করলে এর সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাবে। এই বিবেচনায় তিনি ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ, জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সাতজনকে সেবাবধূ ও দুইজনকে সেবাময়ী নারী পুরস্কার দিলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী এবং উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. হায়াৎ মামুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্মসচিব ড. আফরোজা পারভীন, কবি ফারুক নওয়াজ ও এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক খান।

দেশে নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতনের হার ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে। ডিভোর্সক্ষেত্রে দেশের ৮৫% ডিভোর্স আগে দিচ্ছে মহিলারা। দেশের এমন পরিস্থিতিতে তিনি ২০১৭ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় সম্পাদনা করলেন “পুরুষ যখন নির্যাতিত” গ্রন্থটি। এটি দেশের পাঠক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, সেই জনগণের একটি অংশ কেন রাস্তাঘাটে ঘুমুবে। লক্ষ্য করলে দেখা যায় শতশত শিশু খোলা আকাশের নিচে রাতে ঘুমাচ্ছে। কিছু কিছু এনজিও এ নিয়ে কাজ করলেও এদের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এদের স্থায়ী সমাধানের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। দেশে শতসহস্র একর খাস জমি রয়েছে, সেখানে তাদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করে দিয়ে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসন করা অতিশয় জরুরী । এ ভাবনা থেকে তিনি লিখেছেন নিরাশ্রয় মানুষ নামে প্রবন্ধ ও কবিতা। সেই সঙ্গে একাধিক লেখকের লেখা সংগ্রহ করে তিনি সম্পাদনা করলেন নিরাশ্রয় মানুষ নামে গ্রন্থটি।

নাপিত, ধোপা, কামার-কুমার মেথর, কৃষক প্রভৃতি শ্রমজীবী মানুষ নিয়ে লিখলেন, এই সমাজের সেবক যাঁরা গ্রন্থটি। তাদের পরিশ্রমে দেশ ও জাতি হেসে ওঠে। অথচ, সমাজে তারা অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এসব মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। সমাজে তাদের নেই মূল্যায়ন। অখণ্ড বাংলার কৃতী সন্তানরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে গেছেন, এমন শতাধিক ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যুর তারিখসহ স্বরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্তে ছন্দে লিখলেন কাজের মাঝে অমর যাঁরা গ্রন্থটি। তিনি লিখলেন বাঙালি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড। তিনি লিখলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলার আলোকিতমুখ গ্রন্থটি। এটিতে রয়েছে শতাধিক গুণী ব্যক্তির ছবিসহ জীবনী।

তিনি লিখেছেন কাব্যরানী নামে একটি কাব্যগ্রন্থ। এটিতে রয়েছে কেবল একটি মেয়েকে নিয়ে ১০০টি কবিতা। ২০১৪ সালে ঢাকার হোটেল এনট্রেন্সে জাতীয় লেখক-সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। সে অনুষ্ঠানে জনাব কামাল লোহানী কাব্যরানী বইটি হাতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উৎসর্গসহ কয়েকটি কবিতা পড়ে হো হো করে হেসে উঠলেন। তারপর বইটি সবাইকে দেখিয়ে বললেন, আবদালী ভাইয়ের জীবনী কে লিখতে পারবেন? সাথে সাথে কবি ও সাংবাদিক সালাম সালেহ উদদীন বলে উঠলেন, আমি লিখবো। তারপর ২০১৬ সালে সালাম সালেহ উদদীন লিখলেন প্রেমরাজ উপন্যাসটি। এ গ্রন্থে রয়েছে তার একাধিক প্রেমের বর্ণনা। হ্যা, এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম, তিনি মুক্তচিন্তা ও প্রগতিশীল লেখক এবং প্রকাশনা সংস্থা গ্রন্থকাননের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান আবদালী। তিনি ১৯৬৪ সালের ২৫ মে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল বারি এবং মা রাবেয়া খাতুনের পাঁচ পুত্র সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয় । স্ত্রী রওশন আরা আবদালী এবং একমাত্র পুত্র ইনতান আবদালীকে নিয়ে তার সুখের সংসার।

২০১৪ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় কাব্যরানী বইটি মোড়ক উন্মোচন করেন সাবেক সচিব ও প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া। সেদিন বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সাইদউদ্দিন খান জাবেদ, ছড়াকার ও সাংবাদিক সাব্বির আহমেদ সুবীর ও অভিনেতা জাফর তামামসহ অনেকে। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন,সম্রাট শাহজাহান মমতাজের প্রেমে পড়ে তাজমহল গড়ে গেলেন আর আমাদের এই শাহজাহান কাব্যরানী বইটির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবেন।

অথচ, ছোটবেলায় পাড়ার অনেকেই আফসোস করে হোক কিংবা ব্যঙ্গ করে হোক তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে প্রায়ই বলতেন, তার কাছে কোনো মা-বাবা মেয়ে বিয়ে দেবে না। শুধু তাই নয়, তাকে ইঙ্গিত করে একদিন পাশের বাড়ির কয়েকজন আপু ও ভাবি বলাবলি করছিল, তার কাছে কে বিয়ে বসবে?

শাহজাহান আবদালী সাহিত্যের সকল শাখায় সমান দক্ষ। তার রম্যরচনা যেমন বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে তেমনি ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ ছড়া-কবিতাও পাঠকনন্দিত হয়েছে। তার রচিত গ্রন্থ ৭০ টি। তিনি একজন মুক্তচিন্তা ও প্রগতিশীলমনা মানুষ। তিনি একলা চলেন, কিন্তু কোনো অন্যায়কারী কিংবা অসুন্দরের সঙ্গে ব্যালেন্স করে চলেন না। কাঙ্গালিপনা তার চরিত্রে নেই। যে কাজ আগে কেউ করেনি, সে কাজ তিনি খুঁজে বের করে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। চোখের সামনে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে দ্বিধা করেন না। মানুষের প্রতি রয়েছে তার ইতিবাচক ধারণা। তার শত্রও যদি সমাজের ভালো কাজে উদ্যেগী হয়, তিনি অতীতের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে সেই কাজে সহযোগিতা করেন।

শাহজাহান আবদালীর জীবন থেকে এটুকু স্পষ্ট হয়েছে যে, কোন মানুষকে তার বাহ্যিক সরলতা দেখে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে নেই। কারণ সেও আগামীর পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন দেখাতে পারে।

আহসান উদ্দিন ইয়াকুব

সবার সাথে শেয়ার করুন

One response to “এই সেই ছেলেটি”

Leave a Reply

Your email address will not be published.

অন্যান্য সংবাদ পড়ুন
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার ‘ভোরের জানালা ডট কম’ কর্তৃক সংরক্ষিত।
সাইট ডিজাইন এন্ড ডেভেলপ মেহেদী হাসান রিয়াদ - 01760-955268
error: দুঃখিত, আপনি আমাদের নিউজ চুরি করতে পারবেন না। ধন্যবাদ।